Monday, September 25, 2023

post 3

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখন করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যস্ত। এই ভ্যাকসিন তৈরিতেই কিন্তু জীব-প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রয়োগ করে হাম, যক্ষ্মাসহ নানা ধরনের সংক্রামক রোগের প্রতিরোধক তৈরি করা হচ্ছে। সুতরাং, বুঝতেই পারছো ওষুধশিল্পে জীব-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগের জন্য ইনসুলিন, মানুষের দেহ বৃদ্ধির হরমোনসহ অন্যান্য হরমোন তৈরি করা হচ্ছে; অন্যদিকে কম সময়ে অধিক পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করতেও জীব-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।  ইন্টারফেরন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রোটিন অণুর সমন্বয়ে গঠিত। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বেশ সহায়ক। জীব-প্রযুক্তির কল্যাণে বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারফেরন উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। কৃষি উন্নয়নেও জীব-প্রযুক্তি পিছিয়ে নেই। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুইডেনের এক বিজ্ঞানী ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ‘সুপার রাইস’ উদ্ভাবন করেছেন। বন্য উদ্ভিদের উৎকৃষ্ট জিন ফসলি উদ্ভিদে স্থাপন করে অধিক ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ফসলি উদ্ভিদ যেমন—ধান, পাট, গম ইত্যাদিতে ফলন বাড়বে। জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে যেখানে ভিটামিন ‘সি’, বিটা ক্যারোটিন ও ফলিক এসিড পাওয়া যাবে। প্রায় ৬০টি উদ্ভিদ প্রজাতিতে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে এগুলো পতঙ্গ, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হবে এবং পরিবেশের প্রতিকূলতা মানিয়ে নিতে পারবে।  গৃহপালিত পশু উন্নয়নেও জীব-প্রযুক্তি কাজ করে যাচ্ছে। ট্রান্সজেনিক ভেড়া উদ্ভাবন করা হয়েছে, এ জাতের ভেড়ায় প্রতি লিটারে ৩৫ গ্রাম পর্যন্ত হিউম্যান আলফা অ্যান্টিট্রিপসিন প্রোটিন পাওয়া যায়। দুধ থেকে খাদ্যসামগ্রী তৈরি করতেও জীব-প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। সুতরাং বুঝতেই পারছো, বর্তমান পৃথিবীতে জীব-প্রযুক্তির গুরুত্ব কতটা!

No comments:

Post a Comment

post 3

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখন করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যস্ত। এই ভ্যাকসিন তৈরিতেই কিন্তু জীব-প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রয়োগ ক...